কংগ্রেস কথন
কিছু
ব্যাপার শুরু হতে অনেকগুলি দিন সময় নেয়, সাথে নেয় এক বৃক্ষ পরিশ্রম,
অবশেষে একদিন ধুপ করে তা শুরু হয়ে
যায় । তখন আমরা
সেই সময়ে ভেসে বেড়াই, হেঁটে বেড়াই, কথা বলে বাতাসে ছেড়ে দেই, মাঝে মধ্যে সব ভুলে কয়েক
সেকেন্ডের জন্য সব ছেড়ে দিয়ে
একমনে সেই সময়ের দিকে তাকিয়ে থাকি ! কেন তাকিয়ে থাকি জানি না, ভাবি যদি এই সুন্দর সময়টা
শেষ হয়ে যায় ?! কেন কেন কেন ?! শেষ হতেই হবে ?! বাতাস যেমন আমাদেরকে পুরোটা জীবনভর জড়িয়ে রাখে, সুন্দর সময়গুলি কি পারে না
তা করতে ?!
কে
যেন হঠাৎ করে বলে উঠে, “নাহ, পারে না !”
তাকিয়ে
দেখি, কেউ না ! তবে মনে হয় কে যেন
আমাদের কল্পনায় এসে এসব বলে যায় । বাস্তবতায় ফিরে
আসি !
একটা
ব্যাপার ভেবে অবাক হই, যখন আমাদের চিলড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস চলে বাচ্চাগুলো মুখে ‘নতুন জায়গায় বেড়াতে আসার হাসি’ নিয়ে নিস্পাপ পায়ে হেঁটে বেড়ায় তখন মনে হতে থাকে যে আমরা কল্পনায়
আছি । কারণ এত
সুন্দর ব্যাপার বাস্তবতায় থাকে না । বাস্তবতা
জঞ্জালে পরিপূর্ণ ! কংগ্রেসের বাচ্চাগুলি কেমন করে যেন সেগুলি সব কিছু কাটিয়ে
আমাদের আলাদা এক জগতে নিয়ে
যায় ।
কল্পনা
ঠিক নয়, মায়া বলা যায় ! মায়া এবং খুব গভীর মায়া ! যখন আমরা এই মায়ায় ভেসে
বেড়াই তখন মনে হয়, “আরে, হ্যাঁ তো ! এই তো আমি
চাই !” আর যখন শেষ
হয়ে যায়, তখন ধীর পায়ে সব মায়া ছেড়ে
চলে আসার সময় কেমন যেন লাগে, যেন নিজেকে নিজের থেকে আলাদা করে ফেলার একটা অনুভূতি !
কংগ্রেস
শেষে যখন হেঁটে বেরিয়ে আসি, তখন ঘাড় ঘুরিয়ে শেষবার পেছনে তাকাই, বাতাসে বাচ্চাদের গল্প খুঁজে পাই, হাসির শব্দ হাত বাড়িয়ে ধরতে চাই ! ওদের বলা সত্যি ভালবাসার কথাগুলিকে বাতাস থেকে সময় থেকে চুরি করে কাঁচের বোতলে আটকে রাখতে চাই ! যখন ইচ্ছে হবে তখন কাঁচের দেয়ালে কান লাগিয়ে ওদের কথাগুলি শুনব বলে !
কথা
অনেক শুনি, শব্দ অনেক শুনি । কিন্তু কথার
মত কথা বা শব্দের মত
শব্দ শুধু কংগ্রেসের বাচ্চাদের কাছেই পাওয়া যায় ! ওদের কথার শব্দগুলি বাতাসে কাঠগোলাপের সুবাস ছড়ায় ।
