বিন্দুগুলি বাতাসে ভেসে বেড়াক
কিছু
মানুষের মুখটা সমসময় হাসিহাসি হয়ে থাকে, ওদের দিকে তাকালে মনে হয় ওরা সবসময়
হাসছে । আমার খালাত
ভাইয়ের মেজ কাকার মুখটা এমনি !
কয়েকদিন
আগে কখন যেন আমাদের বাসায় বেড়াতে এল, কয়েক ঘণ্টা থাকল ! এর মধ্যে তার
সাথে একবার দেখা হল । হাসি
বিনিময় হল । এসময়
আমাকে ঠোঁটে নতুন করে হাসি আনতে হয়েছিল । তবে তাকে
আনতে হয়নি কারণ তার ঠোঁটে সবসময়ই হাসি লেগেই থাকে ।
আমি
অলস হয়ে শুয়ে থাকি, জানলার পর্দা ফেলে দিয়ে । তাই আলো
প্রবেশ করতে পায় না আমার ঘরে
। সারাক্ষণ কেমন যেন একটা সন্ধ্যা সন্ধ্যা পরিবেশ বিরাজ করে !
সেদিন দিনের কোন এক সময়ে বিছানায় শুয়ে ক্লাসের একটা পড়া পড়ছিলাম । সে আমার
ছোট ঘরটায় এলো, আমার সাথে বিদায় সাক্ষাৎ করল, দু’চারটা শুভকামনা
মূলক বাক্য বলে গেল । সেগুলি খুব
সহজ ও সুন্দর ছিল
। ভাল লাগে শুনলে !
আজ
বিকেলে শুনতে পেলাম তার একটি ফুটফুটে মেয়ে বাচ্চা হয়েছে । পৃথিবীর বাতাসে
আসা মাত্রই সে গগনবিদারি কান্না
জুড়ে দিল ! কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটি চুপ
করল, তারপর পৃথিবী থেকে বিদায় নিল !
মা
এখনো জানে না, সে অজ্ঞান ! হয়তো
অজ্ঞান অবস্থায় সে স্বপ্ন দেখছে
তার মেয়েটি প্রথমবারের মত হাঁটা শিখে
তার দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে । লম্বা চুলে
প্রথমবারের মত বেণি করছে
লাল ফিতা বেঁধে ।
আমি
ভাবি, এই
বাচ্চাটার মুখটাও কি ওর বাবার
মতই হত ? মুখে সমসময় হাসি লেগে থাকত ? খুব রেগে গেলেও হাসি ? অভিমান করলেও হাসি ? ঠোঁট ফুলিয়ে কান্না করলেও ঠোঁটের কোণায় হাসি ?
কি
মিষ্টি হত মেয়েটি !
কিন্তু
সে এই পৃথিবীতে আসা
মাত্রই এক বিন্দু চিৎকার দিয়ে কান্না করে চুপ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিল !
