আমার চারটে জড় বন্ধু
আমার সাথে সবসময় চারটা জিনিস থাকে – একটা কালো
কলম, একটা লাল ডায়েরি, ছোট্ট নীল রঙের ভ্যাসলিনের একটা কোটা আর নাকের ড্রপ “এন্টাজল”
! ড্রপারের রঙ শাদা, লেবেলর লেখাগুলি নীল ! সুন্দর দেখতে ।
চলতে ফিরতে মাথায় কোনো আইডিয়া বাতির মত জ্বলে উঠলে
কাল কলম দিয়ে লাল ডায়েরিতে লেখে রাখি, সারাদিন মাথায় অনেক অনেক চিন্তা চলতে থাকে, তাই
যেকোনো সময় ভুলে যেতে পারি, আর না লেখলে আমার মাথাটা কেমন ভোঁতা গর্জন করতে থাকে –
সেজন্যই লেখে রাখি !
নাকে পলিপ আছে আমার, পলিপ মানে নাকের ভেতর অতিরিক্ত
মাংস ! এটা সবসময় থাকে না, যখন ঠাণ্ডা লাগে, তখন ফুলে উঠে আর নাক বন্ধ করে দেয়, নিঃশ্বাস
নিতে পারি না, তখন খুব কষ্ট হয় ! মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হয়, ঠোঁট শুঁকিয়ে ফেটে যায়,
রক্ত বের হয় ! মজার খাবার খেতে পারি না, ঠোঁটে লাগলে ঠোঁট জ্বলে ! ভয়ংকর ! অন্য মিষ্টি
জাতীয় খাবার খেতেও মজা পাই না, কারণ মুখ দিয়ে একইসাথে নিঃশ্বাস নিতে হয় আর খাবার চিবাতে
হয় ! আমার কেন যেন মনে হয় মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার সময় জিহ্বা দিয়ে খাবারের মজাদার
স্বাদ পাওয়া যায় না ! জিহ্বা কি তখন কাজ করা বন্ধ করে দেয় ?
তো যাইহোক, নাক বন্ধ হয়ে গেলে দুই নাকে দু’ফোঁটা
করে এন্টাজল দিয়ে দেই, মিনিট দুয়েকের মধ্যে আমার নাক একদম হাইওয়ে রোড হয়ে যায়, সাঁই
সাঁই করে অক্সিজেন আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড চলাচল শুরু করে ! আমি নিশ্চিন্ত হই ! অন্যান্য
সব কাজ আরাম করে করতে পারি, বিশেষ করে খাবার খাওয়া এবং ঘুম ! এন্টাজল আবিষ্কার না হলে
খাবার আর ঘুম আমার জন্যে জাহান্নাম হয়ে যেত !
আমার ঠোঁট
! অনেক সেন্সিটিভ একজোড়া জিনিস আমার শরীরের উপরের অংশের ! সময়মত ভ্যাসলিন না
লাগালে নরম ঠোঁটের ১২ টা বাজে, ভেটকি মাছের শুঁটকি হয়ে যায় ! এমনটা অবশ্য হত না, মায়ের
অতি ভালবাসা এবং যত্নের কারণে এমন হয়েছে ! আমার জন্মের পর থেকেই পুরো ষড়ঋতু জুড়ে মা
আমার ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে এসেছেন ! আঃ ! কত ভালবাসা ! মা কি জানত যে আমি বড় হওয়ার
পর যদি নিয়মিত ভ্যাসলিন না লাগাই তাহলে আমার ঠোঁট শুঁটকি মাছের মত হয়ে যাবে ? জানত
না মনে হয় ! জানলে কখনই পুরো ষড়ঋতু জুড়ে ভ্যাসলিন লাগাত না !
মানে, মায়ের অতি যত্নের কারণে আমার ঠোঁট দুইটা
ভ্যাসলিনের ভক্ত হয়ে উঠেছিল ! ভ্যাসলিনকে না পেলে শুঁকিয়ে ভেটকি মাছের শুঁটকি হয়ে যেত,
এবং এখনোও যায় ! আমাকে কি কঠিন অবস্থায় ফেলে দিল মা ! হাহ, একটা দীর্ঘশ্বাস !
ভেটকি মাছের শুঁটকি আমার ঠোঁটের থেকেও ভাল, তা
থেকে অন্তত রক্ত বের হয় না, ভ্যাসলিন লেপালেপিরও কোনো ঝামেলা নেই ! শুঁকিয়ে আছে তো
আছেই ! এটাই তার ধর্ম !
ছোটকালে মায়ের অতিযত্নের কারণে এখন সারাটা জীবন
ধরে পকেটে করে ভ্যাসলিন ছোট নীল ডিব্বাটা বয়ে নিতে হবে । গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, বসন্ত
সবসময়ই ঠোঁটে লেপে দিতে হবে !
হাহ, আবারও একটি দীর্ঘশ্বাস এবং এটি আরেকটু লম্বা
!