কুচুর - মুচুর হাড্ডি কাহিনী
হাড্ডি চিবুতে বড়ই আনন্দ পায় আমার এই মস্তিষ্ক, তাই মাঝে মাঝে আশেপাশে থাকা অন্যের থেকেও তা চাইতে দেরি করি না মূহুর্তূটুকু।
আমার মস্তিষ্ক যে ছোটকাল থেকেই প্রাণির হাড়-গোড় ভালবাসে, তা জানি ই। একটা ছোট ঘটনা না বললে তুমিও জানবে না যে হাড্ডির ব্যাপারে আমার মস্তিষ্ক কত্ত আগ্রহী।
তা বলি, শোন –
অনেক ছোটকাল চলছিল আমার তখন, আমার মস্তিষ্ক তখনও হাড্ডি চিবুনোর অনুমতি দেয়নি আমার সাদা দাঁত গুলিকে, তবে ঠোঁট আর জিভ দিয়ে চোষার অনুমতি দিয়েছিল।
যেদিন এই হাড্ডি নিয়ে ঘটনা ঘটেছিল সেদিন – আমার একমাত্র মা, নানীমা, খালা সহ আমি এয়ারপোর্ট এ বসে ছিলাম। যেহেতু এই দুনিয়ায় আমি নতুন তাই আগ্রহী নয়নে আশপাশ দেখছিলাম। দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে আমার চোখ পড়ল একটা ছোট্ট অসহায় বালিকার উপর, যে কিনা আমার প্রিয় জিনিস থেকে আনন্দ চুষছিল, সে আমার মতই ছোট হবে, এই দুনিয়াতে নতুন।
যেহেতু সে আমার প্রিয় জিনিষ থেকে আনন্দ চুষছিল, যদিও তা আমার নয়, সেহেতু এবং তবুও আমি মেয়েটার কাছে দৌড় দিয়ে চলে গেলাম আর ছিনিয়ে নিলাম হাড্ডি – টি তার ছোট্ট হাত থেকে।
তারপর?
তারপর মেয়েটি গগনবিদারি কান্না জুড়ে দিল, আমি এতে মোটেও পাত্তা দিলাম না, মনের সুখে হাড্ডি থেকে আনন্দ চুষতে থাকলাম।
দৃশ্যটি বড়ই আনন্দের ছিল – মেয়েটি কাঁদছে আর আমি তার হাড্ডি খাচ্ছি। মানে মেয়েটির হাতে থাকা হাড্ডি খাচ্ছি, তবে নিজের হাতে নিয়ে।
পরে অবশ্য আমার মা-খালা ছুটে এসে আমার হাত থেকে মেয়েটির হাড্ডি উদ্ধার করে এই অসহায় বালিকাটিকে দিয়ে কান্না থামাল। কিন্তু কান্না আবার ও শুরু হল, তবে এবার মেয়েটির নয়, স্বয়ং নুওয়াইসির সুহাইল সৃষ্টি – এর কান্না।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে অবশ্য আমার মা-খালা মিলে আমার জন্যে আস্ত মুরগী রান্না করে নিয়ে এসেছিল, তা খেয়েছিলাম কিনা – তা জানি না।
কিন্তু ঐ ছোট্ট মেয়েটির খাওয়া হাড্ডিটিতে বড্ড আনন্দ ছিল, এখনও আমার মস্তিষ্ক তার স্বাদ পায়, কারণ মেয়েটি তাতে বেশ কিছু স্বাদ যুক্ত করেছিল! পরে অবশ্য আমিও হাড্ডিটি চুষে বেশ কিছু স্বাদ যুক্ত করেছিলাম যা মেয়েটি খেয়েছিল যখন আমি কান্না করে গাল ভেজাচ্ছিলাম অগ্রহী নয়নের পানি দিয়ে!
এই ঘটনা ঘটেছিল প্রায় চৌদ্দ-পনের বছর আগের !
আর এখন আমি তা ঘটে যাওয়ার চৌদ্দ-পনের বছর লিখছি।
সেই হাড্ডি খাওয়া মেয়েটি কোথায় তা আমি জানি না আর তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে হাড্ডি খাওয়া ছেলেটি কোথায় তা সে জানে না!
তবুও তার সাথে সাক্ষাৎ করে, গল্প গুজব করে, আস্ত মুরগি রান্না করে, মন ভরে হাড্ডি খাওয়ার অধিবাস্তবিক ইচ্ছে আছে আমার। এখন আমাদের দু’জনের মস্তিষ্কই হাড্ডি চিবুনোর অনুমতি দিয়েছে এই সাদা দাঁত গুলিকে। অতএব, আমারা ইচ্ছে মত চিবিয়ে আনন্দ খেতে পারি হাড্ডি থেকে!
তবে এবার কেউ কারও হাড্ডি খেতে পারবে না, যদিও কেড়ে নিতে পারবে!
এগুলি কখনই পূরণ হবে না আর তাই তো বললাম “অধিবাস্তবিক ইচ্ছে”
চিত্র - হাড্ডির কোন ছবি নেই! আর মুরগির হাড্ডির ছবি তুলে দিলে তা বিশ্রী লাগবে! যদিও খেতে তা মজা কিন্তু দেখতে...
তবে প্রতিটি মানুষ তার নিজ নিজ ভাগের মাংসের পিসের হাড্ডি ছাড়া দুনিয়ার আর বাকি সব হাড্ডিকে ইয়াক ইয়াক ধরণের দৃষ্টিপাত করে!